January 1, 2018 · 2 min read
Twaki's Last Minutes
Twaki's Last Minutes
তাসনীম জামান লাবীব
উপজীব্যঃতানভির মুহাম্মাদ ত্বকীর মৃত্যুপূর্ব সময়
ত্বকী অবশেষে দেয়াল বেয়ে উঠতে থাকা ছয় পা ওয়ালা জীবটার যা সে এতদিন ঘৃণা করে এসেছে তার দিকে মনোযোগ দিল।অন্তত চারপাশের জীবগুলোর দিকে তাকানোর চেয়ে মাকড়সার দিকে তাকানো ভালো।তার সামনে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকা বস্তুগুলোকে সে এখন আর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে না।সারাজীবন ধরে গল্প-উপন্যাসে পড়ে আসা ভালো আর খারাপের লড়াইয়ে আজ সে নিজেই অংশ নিচ্ছে।ত্বকীর নিজের লেখা কবিতার কথাই আর কিছুক্ষ্ণ পর সত্যি হতে যাচ্ছে।তাতে কিছুই আসে যায় না।এই লড়াইয়ে সে প্রথম থেকেই জয়ী।
শিরা-উপশিরা থেমে গেছে
দেহ মরে গেছে
মানুষ আর মনুষ্যত্ব লড়াই করে যাচ্ছে।
নিজের লেখা লাইনগুলোর প্রতিফলন ওকে বিস্মিত করছে।ভালো লাগাচ্ছে।সামনের ভাঙ্গা টেবিল,মদের বোতলের মত নয় ওর স্বপ্নগুলো ।শক্ত করে বেধে রাখা হাতের আর মুখের মতই ওর স্বপ্নগুলো জ্বলজ্বল করছে।দুই আঙুলের মাঝ দিয়ে সূর্য দেখা যায় আবার নিজেই সূর্য হওয়া যায়-ও নিজে কোনটা?ত্বকীর চিন্তা গুলো কি হরমোন ক্ষরণের ফল।ওর তা মনে হচ্ছে না।বরং মানুষের সাথে অমানুষের লড়াই তো এমনই হয়া উচিত।মানুষ না হলেই সে অমানুষ।সামনের জীবগুলা তো অমানুষের সংজ্ঞায়নেও পড়ছে না।তাহলে কি?হয়তো,হয়তো না।ও চেষ্টা করছে।এই লড়াইয়ের ফলাফল ওর জানা।ওই জিতবে।মৃতুকে কখনই ওর পরাজয়ের প্রতীক মনে হয় না।চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা দুপেয়ে ইঁদুর গুলোর চিৎকার অর কাছে অসহ্য লাগছে।চারদিক বন্ধ,ভ্যাপসা গরম।একদিক থেকে কিছু আলো আসছে।তাতেই আলোকিত ঘরটা।আলো তো এমনি।পরিসর নয়,তীব্রতাই এর পরিমাপক।ও এই তীব্রতাকেই ধারোন করছে।এই অন্ধঘরে আটকে থেকেও ও অন্ধকারকে ভেঙে ফেলছে।অথবা ভাঙতে চলছে।শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে।পরদিন সকালে অথবাএকমাস-ছয়মাস অথবা অসীম কাল পর্যন্ত ওর দুইশত ছয়ের দেহ শীতলক্ষ্যার কালো পানিতে ভেসে বেড়াবে।কিন্তু ত্বকীর আত্মজতা সারাজীবন দজরেই ঘুরে বেড়াবে।কেমন লাগবে?ভালো অথবা খারাপ।যেকোনো একটা।চারদিকের মানুষগুলো আলোচনা করছে।চিন্তাটা করেই লজ্জা পেলো ও।ও তো এই জীবগুলোকে মানুষ হিসেবে ভাববে না বলেই প্রতিজ্ঞা করেছে।ও নিজে নিজেকে শাসন করল।চারদিকের অশাসনের মধ্যে ওর শাসন নিজেকেই সাহস জোগাচ্ছে।পাশ থেকে জীব বলল-
"তোমার ভয় লাগছে না?"
"কেন?"
"এই যে তুমি মারা যাতে পার...।"
"না,ভয় পাবো কেন?আশ্চর্য তো!!আমি তো কোনো খারাপ কাজ করিনি।আমার জগতটা শুধু আলাদা হচ্ছে।আমি তো আমিই থাকছি।আমার ভয় লাগছে না।"ত্বকী শেশ করল।কথা গুলো সাহিত্যের ভাষায় শেলের মতই লোকটার বুকে বিধল।একটু কুচকে গেলো লোকটা।মনে হল।
লোকটা আবার বলল-"আমার তোমার মত একটা ছেলে আছে।"
ত্বকী শুনতে পেল না।ছয়পাওয়ালা জীবটাই দেখছিল।লোকটা কথাটা আবার বলল।আবার ত্বকী শুনতে পেলেও উত্তর দিল না।ভালোই লাগছে না ওর কথা বলতে।ও আবারও মাকড়সাটা দেখতে লাগলো।
বাবা-মা,অর প্রিয় লেখকের বইগুলো,ফ্রেন্ড গুলো,প্রিয় ঘরটা,কবিতা লেখার দায়েরীতা,বিশেষ মেয়ে ফ্রেন্ডটা,সুন্দর মুহূর্তগুলো,হাসির স্মৃতি ত্বকীর কাছে নীরব লাগতে লাগল।এই জীব গুলোকে হারানোর ইচ্ছার কাছে নীল কালো দুনিয়ার কাছে হারিয়ে দেয়াটা মূখ্য হয়ে উঠছে।অর সকল হিমোগ্লোবিক জৈব চিন্তা গুলো ফাঁকা হতে আছে।কোনো দিন কূপের বাইরে না আসা ব্যাং,বনের অর্ধনগ্ন জীব,মৃত জীবিত,শাস্তি দেবতার কর্দয রূপ কিংবা পাশের কারখানার ধোঁয়ার মতই মানুষগূলো।সবই গৌণ হতে থাকছে।
ফেলা হল,টেনে উঠানো হল,উপড়ানো হল,কাটা হল,সাইজ করা হল,কারখানার মতই বস্তাতে ঢুকানো হল,প্রদীপ ভাসানোর মতই ভাসানো হল।কোনো অজৈব জিনিস নয়।ত্বকীর জৈবিক দেহটার শেষ পরিণতি নির্ধারিত হল।সাদাকালো ফ্রেমের, যা কোনোদিন আটকানো যায় না।
তাসনীম জামান লাবীব
উপজীব্যঃতানভির মুহাম্মাদ ত্বকীর মৃত্যুপূর্ব সময়
ত্বকী অবশেষে দেয়াল বেয়ে উঠতে থাকা ছয় পা ওয়ালা জীবটার যা সে এতদিন ঘৃণা করে এসেছে তার দিকে মনোযোগ দিল।অন্তত চারপাশের জীবগুলোর দিকে তাকানোর চেয়ে মাকড়সার দিকে তাকানো ভালো।তার সামনে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকা বস্তুগুলোকে সে এখন আর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে না।সারাজীবন ধরে গল্প-উপন্যাসে পড়ে আসা ভালো আর খারাপের লড়াইয়ে আজ সে নিজেই অংশ নিচ্ছে।ত্বকীর নিজের লেখা কবিতার কথাই আর কিছুক্ষ্ণ পর সত্যি হতে যাচ্ছে।তাতে কিছুই আসে যায় না।এই লড়াইয়ে সে প্রথম থেকেই জয়ী।
শিরা-উপশিরা থেমে গেছে
দেহ মরে গেছে
মানুষ আর মনুষ্যত্ব লড়াই করে যাচ্ছে।
নিজের লেখা লাইনগুলোর প্রতিফলন ওকে বিস্মিত করছে।ভালো লাগাচ্ছে।সামনের ভাঙ্গা টেবিল,মদের বোতলের মত নয় ওর স্বপ্নগুলো ।শক্ত করে বেধে রাখা হাতের আর মুখের মতই ওর স্বপ্নগুলো জ্বলজ্বল করছে।দুই আঙুলের মাঝ দিয়ে সূর্য দেখা যায় আবার নিজেই সূর্য হওয়া যায়-ও নিজে কোনটা?ত্বকীর চিন্তা গুলো কি হরমোন ক্ষরণের ফল।ওর তা মনে হচ্ছে না।বরং মানুষের সাথে অমানুষের লড়াই তো এমনই হয়া উচিত।মানুষ না হলেই সে অমানুষ।সামনের জীবগুলা তো অমানুষের সংজ্ঞায়নেও পড়ছে না।তাহলে কি?হয়তো,হয়তো না।ও চেষ্টা করছে।এই লড়াইয়ের ফলাফল ওর জানা।ওই জিতবে।মৃতুকে কখনই ওর পরাজয়ের প্রতীক মনে হয় না।চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা দুপেয়ে ইঁদুর গুলোর চিৎকার অর কাছে অসহ্য লাগছে।চারদিক বন্ধ,ভ্যাপসা গরম।একদিক থেকে কিছু আলো আসছে।তাতেই আলোকিত ঘরটা।আলো তো এমনি।পরিসর নয়,তীব্রতাই এর পরিমাপক।ও এই তীব্রতাকেই ধারোন করছে।এই অন্ধঘরে আটকে থেকেও ও অন্ধকারকে ভেঙে ফেলছে।অথবা ভাঙতে চলছে।শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে।পরদিন সকালে অথবাএকমাস-ছয়মাস অথবা অসীম কাল পর্যন্ত ওর দুইশত ছয়ের দেহ শীতলক্ষ্যার কালো পানিতে ভেসে বেড়াবে।কিন্তু ত্বকীর আত্মজতা সারাজীবন দজরেই ঘুরে বেড়াবে।কেমন লাগবে?ভালো অথবা খারাপ।যেকোনো একটা।চারদিকের মানুষগুলো আলোচনা করছে।চিন্তাটা করেই লজ্জা পেলো ও।ও তো এই জীবগুলোকে মানুষ হিসেবে ভাববে না বলেই প্রতিজ্ঞা করেছে।ও নিজে নিজেকে শাসন করল।চারদিকের অশাসনের মধ্যে ওর শাসন নিজেকেই সাহস জোগাচ্ছে।পাশ থেকে জীব বলল-
"তোমার ভয় লাগছে না?"
"কেন?"
"এই যে তুমি মারা যাতে পার...।"
"না,ভয় পাবো কেন?আশ্চর্য তো!!আমি তো কোনো খারাপ কাজ করিনি।আমার জগতটা শুধু আলাদা হচ্ছে।আমি তো আমিই থাকছি।আমার ভয় লাগছে না।"ত্বকী শেশ করল।কথা গুলো সাহিত্যের ভাষায় শেলের মতই লোকটার বুকে বিধল।একটু কুচকে গেলো লোকটা।মনে হল।
লোকটা আবার বলল-"আমার তোমার মত একটা ছেলে আছে।"
ত্বকী শুনতে পেল না।ছয়পাওয়ালা জীবটাই দেখছিল।লোকটা কথাটা আবার বলল।আবার ত্বকী শুনতে পেলেও উত্তর দিল না।ভালোই লাগছে না ওর কথা বলতে।ও আবারও মাকড়সাটা দেখতে লাগলো।
বাবা-মা,অর প্রিয় লেখকের বইগুলো,ফ্রেন্ড গুলো,প্রিয় ঘরটা,কবিতা লেখার দায়েরীতা,বিশেষ মেয়ে ফ্রেন্ডটা,সুন্দর মুহূর্তগুলো,হাসির স্মৃতি ত্বকীর কাছে নীরব লাগতে লাগল।এই জীব গুলোকে হারানোর ইচ্ছার কাছে নীল কালো দুনিয়ার কাছে হারিয়ে দেয়াটা মূখ্য হয়ে উঠছে।অর সকল হিমোগ্লোবিক জৈব চিন্তা গুলো ফাঁকা হতে আছে।কোনো দিন কূপের বাইরে না আসা ব্যাং,বনের অর্ধনগ্ন জীব,মৃত জীবিত,শাস্তি দেবতার কর্দয রূপ কিংবা পাশের কারখানার ধোঁয়ার মতই মানুষগূলো।সবই গৌণ হতে থাকছে।
ফেলা হল,টেনে উঠানো হল,উপড়ানো হল,কাটা হল,সাইজ করা হল,কারখানার মতই বস্তাতে ঢুকানো হল,প্রদীপ ভাসানোর মতই ভাসানো হল।কোনো অজৈব জিনিস নয়।ত্বকীর জৈবিক দেহটার শেষ পরিণতি নির্ধারিত হল।সাদাকালো ফ্রেমের, যা কোনোদিন আটকানো যায় না।